অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেই শচিনের রেকর্ড ভাঙলেন জিম্বাবুয়ের টেলর
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুরু হয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলতে নেমেই ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের দীর্ঘদিনের একটি রেকর্ড ভেঙে দিলেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মালিক হয়ে গেলেন তিনি।
টেলরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি এখন ২২ বছর ৪ মাস। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন ভারতের কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারকে। ২০১২ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার আগে টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব ছিল ২২ বছর ৩ মাস। এটাই ছিল ওয়ানডেতে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের রেকর্ড। এবার সেটাকে পেছনে ফেললেন টেলর।
তবে ওয়ানডের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড এখনো টেন্ডুলকারের দখলে। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তার নামের পাশে রয়েছে ১৮ হাজার ৪২৬ রান। একই সঙ্গে এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার- ৪৬৩টি।
৪০ বছর বয়সী ব্রেন্ডন টেলর ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হন ২০০৪ সালে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে নামার আগে ২০৭ ওয়ানডেতে ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, যা জিম্বাবুয়ের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। সব মিলিয়ে রান করেছেন, ৬৭০৪ (চলতি ম্যাচ বাদে)।

তবে টেলরের ক্যারিয়ার সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২২ সালে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ও অ্যান্টি-ডোপিং কোড ভঙ্গের কারণে তাকে সাড়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন টেলর। জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করায় আবারও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচটি তাই টেলরের জন্য ছিল আরও একটি বিশেষ উপলক্ষ। একদিকে ২২ বছর ৪ মাসের ক্যারিয়ার নিয়ে টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যাওয়া, অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ- সব মিলিয়ে ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। দুই দলেরই জন্য এটি ছিল জিম্বাবুয়ের মাটিতে দীর্ঘ ১২ বছর পর ওয়ানডেতে প্রথম সাক্ষাৎ।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। দুই দলের বর্তমান স্কোয়াডে এমন মাত্র তিনজন ক্রিকেটার আছেন, যারা ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ ওয়ানডেতেও খেলেছিলেন। মার্শ তাদের একজন। অন্য দুজন হলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও ব্রেন্ডন টেলর।
২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে যে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী ছিলেন টেলর ও রাজা। ১২ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামলেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে রয়েছেন- মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারে, ম্যাট রেনশ, অলিভার পিক, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা ও স্পেন্সার জনসন।
জিম্বাবুয়ের একাদশে রয়েছেন- ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ইনোসেন্ট কাইয়া, ব্রেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভিরে, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
আইএইচএস/


