ডাকসুতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পায়ের নিচে রেখে প্রতিবাদ
পদদলিত করতে এবার ডাকসুর ভবনের প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার ভেতরে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি লাগিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি লাগানোর প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ঢাবির ১০৫তম ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি লাগানোর পর বলেছিলেন যে তার ইচ্ছা হয়েছে এজন্য তিনি লাগিয়েছেন। আমরাও সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বলছি, আমাদের ইচ্ছা হয়েছে আমরা পদদলিত করেছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, তারা হাদি ব্যবসা, জুলাই ব্যবসা করে স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক, যার কি না ইশতেহারে ছিল মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা।
তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থিদের ক্ষমতা দিয়ে, আমরা গোলাম আযম এবং জিন্নার ছবি, পাকিস্তানপন্থিদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম। এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থির রাজনীতি সামনে আনানো যাবে না। আমরা দেখেছি বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করত। এখানে স্পষ্ট যে, শেখ মুজিবের ছবির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে তারা জিন্নাহ এবং গোলাম আযমের ছবি আনতে চেয়েছে।
ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদারস ল্যাংগুয়েজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশ শামস বলেন, কিছুদিন ধরে দেখছি যে জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে খুব সম্ভবত ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জিন্নার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সেখানে ঝুমা অতি উৎসাহের সঙ্গে পোস্টার শেয়ার দেন।
সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত রোববার আবার চালু করা হয়। এতে নতুন করে রাখা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি।
শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা আগে ছিল।
পরে সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি গতকাল বিকেলে ডাকসু সংগ্রহশালায় টানিয়ে দিয়েছিল ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।
আরটি/এমআইএইচএস


