হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন- ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়া (৪৮), মনির হোসেন, সজিব মিয়া, মো. তারেক, তাহমুদা বেগম, রাবিয়া বেগম, তামান্না বেগম, পাখি বেগম, সামিকা বেগম, সেলিনা বেগম, সুফিয়া বেগম, ইতি আক্তার (২৩), সাদিয়া (২০), আকলিমা আক্তার (২৬) ও রত্না (৩০)।
পুলিশ সূত্র জানায়, পরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াসহ গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
ঘটনার পর রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মাধবদী এলাকায় তাকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে রেনু মিয়াকে গ্রেফতারের পর তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের মধ্যে ইতি আক্তার, সাদিয়া, আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় এসআই শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে।
এসকে রাসেল/এসজেডএইচ/জেআইএম

