২০০৩ সাফ, ২০১০ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের জন্য আসছে বড় পুরস্কারের ঘোষণা!
খেলাপ্রেমী মাত্রই জানেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপারও। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালে ঢাকায় হওয়া এসএ গেমস ফুটবলে এই আমিনুল হকের নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ।
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর সেই এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে অনেকটা সময় কাটালেন সেই সাফল্যের মিশনের অধিনায়ক ও আজকের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের পাঁচতলায় সেই সতীর্থ ফুটবলারদের পাশে পেয়ে খুব প্রাণোচ্ছল আর হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেল আমিনুল হককে। হাসিমুখে ১৬ বছর আগের সহযোদ্ধাদের বরণ করে নেয়া ক্রীড়ামন্ত্রী আগামীতে ২০০৩ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী ফুটবল দলকে একটা ভালো কিছু উপহার দেয়ার কথা ভাবছেন।
আজ মঙ্গলবার এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের একাধিক সদস্য ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পুরস্কার, সম্মাননা ও স্মারক চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানাবো। অবশ্যই আমিও চাই আমাদের ফুটবলে দুটি স্বর্ণালী সাফল্য উপহার দেয়া দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে।’
তবে কী দেয়া যায়? তাৎক্ষণিকভাবে তা না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কথা বলে তারপর ঘোষণার কথা বলেন আমিনুল হক।
বলে রাখা ভালো, এখন যিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), সেই জাহিদ পারভেজও ওই এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য।
দেশের ফুটবল ইতিহাসের দুই বড় তারকা মামুনুল হক আর জাহিদ হাসান এমিলি জানিয়ে দিলেন, জাহিদ পারভেজ ভাই-ই আমাদের (সেই ২০১০-এর এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের) ফুটবলারদের প্রিয় বড় ভাই ‘ক্যাপ্টেন’ এবং বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তাদের দুজনই অগ্রজপ্রতিম ফুটবলার জাহিদ পারভেজকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে অনেক কর্মব্যস্ততার মাঝেও এক সময়ের সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে বসে সাফল্যের সেই সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করা ও সেই ফুটবল দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও দ্বিধা ছিল না মামুনুল ও এমিলির।
দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমরা অনেক ধরেই চাচ্ছিলাম আমাদের এসএ গেমসে স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক, ক্যাপ্টেন ও অগ্রজপ্রতিম আমিনুল ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে। অবশেষে জাহিদ পারভেজ ভাইয়ের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় সেটা বাস্তব রূপ পেয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এজন্য আনন্দিত।’
১৬ বছর আগে ঢাকা এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের পেছনে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূমিকার কথা জানিয়ে এমিলি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো আমাদের জাল ছিল নিশ্ছিদ্র। আমরা প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল করলেও একটি গোলও হজম করিনি। আমিনুল ভাই গোলপোস্ট আগলে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। পাশাপাশি আমাদের ক্যাপ্টেন। গাইড। তার নির্দেশনা আমাদের সাফল্য ত্বরান্বিত করেছে।’
বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রীকে ওয়েল ডিসিপ্লিন্ড আখ্যা দিয়ে এমিলি বলেন, ‘আমিনুল ভাই বরাবরই খুব সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার ওই সুশৃঙ্খলতা আমাদের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা পুরো দল ডিসিপ্লিন্ড হয়ে উঠেছিলাম। নিজ রক্ষণদুর্গ ও গোলপোস্ট আগলে রাখার পাশাপাশি আমিনুল ভাই আমাদের পুরো দলের ভালো খেলার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। এবং বলতে পারেন, আমাদের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের অন্যতম রূপকারই ছিলেন আমিনুল ভাই।’
‘সেই ২০১০ সালের এস এ গেমসের স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক আজ দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী, এটা অনেক ভালো লাগার। তা জানিয়ে এমিলি বলেন, আমরা আমিনুল ভাইয়ের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হতে চাই। তিনি যদি কোনো কাজে আমাদের ডাকেন, সেটা শুধু যে ফুটবলেই তা নয়। ক্রীড়া উন্নয়নের যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা আমিনুল ভাইয়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।’
এক সময়ের সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার ও ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য মামুনুল হক বলেন, ‘জাহিদ ভাই (জাহিদ পারভেজ) ও আমিনুল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’
‘আমাদের সবার সঙ্গে আমিনুল ভাইয়ের সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ায় জাহিদ ভাইকে ধন্যবাদ। আর অনেক কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমিনুল ভাই যে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের সাথে সময় কাটিয়েছেন, আমরা আবার সেই হারানো দিনে ফিরে যেতে পেরেছি, সেটা অনেক ভালো লাগার।’
এমিলির সাথে সুর মিলিয়ে মামুনুলও বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়ে এসেছি। আজ আবার পেলাম তাকে একসঙ্গে। খুব কাছে। এক সাথে।’
অতীত স্মৃতি টেনে মামুনুল বলেন, ‘আমিনুল ভাই মাঠ ও মাঠের বাইরেও জেনুইন লিডার। বড় ভাই। আমার নিজের সহ অনেকেরই ব্যক্তি জীবনের অনেক না পাওয়া, কষ্ট-বেদনাও তিনি শেয়ার করতেন। আমাদের কাছে থেকেছেন। আমার নিজের জীবনে ক্রাইসিস পিরিয়ডে অন্তত বার দুয়েক আমিনুল ভাই আমার পাশে থেকে হেল্প করেছেন। আমার পার্সোনাল প্রবলেম মিটিয়ে দিয়েছেন।’
‘একইভাবে মাঠেও তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। গোলকিপার হিসেবে তিনি ছিলেন দারুণ দক্ষ। তার দল পরিচালনা, সবাইকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা ছিল দারুণ। নিজে সুশৃঙ্খল থেকে আমাদের সবাইকে ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকতে অগ্রণীর ভূমিকা পালন করেছেন। আমিনুল ভাইয়ের যোগ্য নেতৃত্বেই আসলে আমরা এসএ গেমস ফুটবলে সাফল্য পেয়েছিলাম।’
খেলোয়াড়ী জীবনে আমিনুলের সতীর্থ ও সহযোদ্ধা মামুনুলের আশা, আগামী দিনগুলোয়ও তিনি এবং তারা সবাই ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের পাশে থেকে দেশের ফুটবল ও ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
২০১০ সালের এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের সদস্যদের মধ্যে আজ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে সাক্ষাতে অন্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন মাজহারুল হিমেল, আতিকুল মিশু, ওয়ালি ফয়সাল, জাহিদ পারভেজ, মামুন মিয়া, নাসিরুল ইসলাম নাসিম, মিন্টু শেখ, রেজাউল করিম, মামুনুল ইসলাম, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, এনামুল হক, শাকিল হক, জাহিদ হাসান এমিলি ও জাহিদ হোসেন।
এআরবি/এমএমআর
