এনআইডি না থাকা ক্রীড়াবিদদের হাতে চেক তুলে দিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী
ক্রীড়াবিদদের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল এবং আরও ক্রীড়ামুখী করতে বর্তমান সরকার এরই মধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সেই গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ৭৪ জন নারী ও ৫৫ জন পুরুষ ক্রীড়াবিদকে ১ লাখ টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করেন।
এরপর গত ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭১ জন ক্রীড়াবিদের মাঝেও ক্রীড়া কার্ড ও সেই ১ লাখ টাকা ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হয়েছে। যার ১০৫ জন পুরুষ আর ৬৬ জন নারী। কিন্তু এর মধ্যে ৩২ জন ক্রীড়াবিদ তাদের মাসিক ভাতা সংগ্রহ করতে পারেননি।
এমন নয়, তাদের ভাতা দেয়া হয়নি। আর সবার মত তাদের জন্যও মাসে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু একটি বিশেষ কারণে ওই ৩২ ক্রীড়াবিদ তাদের ভাতা তুলতে পারেননি।
আজকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা বিকাশ বা নগদে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে। কিন্তু যাদের বয়স ১৮-এর নিচে, তাদের তো আর ন্যাশনাল আইডি নেই। তাই তারা ব্যাংকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে কিংবা বিকাশ বা নগদ বা অন্য কোনোভাবেও অর্থ সংগ্রহ করতে পারছেন না।
যেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ব্যাংক বা অন্য বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব না, তাই ১৮ বছর বয়সের নিচে থাকা ৩২ ক্রীড়াবিদ নিজেদের ভাতা সংগ্রহ করতে পারেননি।
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর সেই ৩২ জনের ২১ জনের হাতে চেক প্রদান করা হলো। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজ হাতে ক্রীড়াবিদদের হাতে এ অর্থ তুলে দেন।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এর পঞ্চম তলায় এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়াবিদদের হাতে অর্থ তুলে দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও খেলাধুলায় বিশেষ আগ্রহী। তিনিও চান দেশের খেলাধুলার সত্যিকার উন্নয়ন। তাই তিনি ক্রীড়াবিদদের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান।’
ক্রীড়ামন্ত্রী আরও জানান, আসলে ১৮ বছরের নিচে কিশোর-কিশোরীদের তো আর ন্যাশনাল আইডি নেই। তাই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই। তারা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকা ভাতা নিয়মিত ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারছে না।
ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স, সেই ক্রীড়াবিদরা যাতে ক্রীড়া ভাতা ব্যাংক থেকে নিতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে কথা বলবো। দেখি বিকল্প কিছু করা যায় কিনা। আশা করি তাতে করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।’
এদিকে ক্রীড়া কার্ড পাওয়া ক্রীড়াবিদদের বীমা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে উল্লেখ করেছেন ক্রীড়া মন্ত্রী। তার কথা, ‘যে সব ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া কার্ড পাবেন, সেই কার্ডে পাওয়া সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ইন্স্যুরেন্স আর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।’
ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন। ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার যথার্থ পরিচর্যা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা আগামীতে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেন, আগামীতে শুধু অংশগ্রহণের জন্য অংশ নেয়া না।আমরা এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিক গেমসে পদক জয়ের জন্য লড়বো।’
সে লক্ষ্যে সম্ভাব্য করণীয় কী? তাও বাতলে দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তার কথা, ‘আমরা এবার জাপানের মাটিতে হওয়া এশিয়ান গেমসের পর পরই ১৩/১৪টি ইভেন্ট ও ডিসিপ্লিনকে বেছে নিব। আমরা খুঁটিয়ে দেখবো কোন কোন খেলায় আমাদের মহাদেশীয় পর্যায়ে পদক জেতার সম্ভাবনা আছে। ঠিক সেই খেলাগুলোয় আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। এবং এশিয়ান গেমসের পর বাছাই করা ১৩ থেকে ১৪টি স্পোর্টস ইভেন্ট ও ডিসিপ্লিনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। সেটা কোন গেমস বা ক্রীড়া আসর সামনে রেখে নয়। সারা বছর ধরে চলবে। এবং ৫ বছর মেয়াদে প্রশিক্ষণ শেষে আমরা এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়বো।’
আমিনুল হক বলেন, ‘আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ক্রীড়াবিদদের হাতে অর্থ তুলে দেয়ার দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। এর পাশাপাশি সারা দেশে ৪৫৯৯ ইউনিয়নে আমরা একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে সব জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এ সরকারি নির্দেশ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনেও একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ, সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথাও হয়েছে।’
এআরবি/এমএমআর


