ইয়ামাল ছুঁলেন মেসিকে, এমবাপের ৬- ইউরোপে সপ্তাহান্তের যত চমক
সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলে ছিল গোল, নাটক আর রেকর্ডের সমাহার। ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটি বিতর্কিত এক ম্যাচে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছে আরলিং হালান্ডের গোলে। আর্সেনালও সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের নিখুঁত শুরু ধরে রেখেছে।
লিভারপুল ফুলহ্যামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে খুব একটা ছন্দে ছিল না। চেলসিও হালের কাছে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।
লা লিগায় লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই পাঁচ জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদও রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ শেষ দিকে তিন গোল করে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।
বুন্দেসলিগায় এসভি এলভার্সবার্গকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বরুশিয়া মঞ্চেনগ্ল্যাডবাখকে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রেইবুর্গ। পাদেরবর্নকে হারিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও। সপ্তাহান্তের ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা পরিসংখ্যানগুলো একনজরে-
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
৯: ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যকার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আরলিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফ্রান্সিস লি ও জো হেইসের রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র ১ গোল প্রয়োজন হালান্ডের। আর ম্যানচেস্টার ডার্বির সর্বকালের রেকর্ড থেকে তিনি ২ গোল পিছিয়ে। ওয়েন রুনির ডার্বি গোলসংখ্যা ১১।
১০: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি ১০টি জয় পেয়েছে। এই ভেন্যুতে সফরকারী দল হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ জয়। লিভারপুল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৮ বার জিতেছে। আর্সেনাল ও চেলসি জিতেছে ৬ বার করে।
২: প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সফরকারী দল হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫০টি দল লাল কার্ড দেখেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ২টি দল লাল কার্ড দেখেও ম্যাচ জিতেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এভার্টন এবং এবার ম্যানচেস্টার সিটি। মজার বিষয়, দুই ম্যাচেই জয়ী দলের হয়ে মাঠে ছিলেন ইলিমান এনদিয়ায়ে।
MANCHESTER IS BLUE
— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026
Down to 10 men since the 23rd minute, Man City find the winner through Erling Haaland and take all three points at Old Trafford pic.twitter.com/eUd7Ic2dOF
০: প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নিজেদের মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই হেরে কোনো গোল করতে পারেনি- এমন দলের তালিকায় পঞ্চম দল হলো কভেন্ট্রি সিটি। এর আগে ডার্বি ১৮৯৯-০০, স্টোক ১৯০৬-০৭, প্রেস্টন ১৯২৪-২৫ এবং ক্রিস্টাল প্যালেস ২০১৭-১৮ মৌসুমে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল।
৪: ২০২৬-২৭ মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পার প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে মৌসুম শুরুর পর গোলহীন থাকার দিক থেকে তাদের চেয়ে দীর্ঘ সময় পার করেছে শুধু ক্রিস্টাল প্যালেস। ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্যালেস প্রথম ৭ ম্যাচে গোল করতে পারেনি। এটি ইংল্যান্ডের শীর্ষ চার স্তরের ফুটবলে টটেনহ্যামের মৌসুম শুরুর সবচেয়ে দীর্ঘ গোলখরা।
৯: প্রিমিয়ার লিগে টানা ৯ ম্যাচ জিতেছে আর্সেনাল। ২০০৪ সালের মার্চের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়ধারা। সেবারও টানা ৯ ম্যাচ জিতেছিল তারা। প্রিমিয়ার লিগের কোনো মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই জয় পাওয়ার ঘটনা আর্সেনালের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার। এর আগে ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫ ও ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা এমন শুরু করেছিল।
৮: নটিংহাম ফরেস্টের মরগ্যান গিবস-হোয়াইট প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ ৮টি অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। এই সময়ে তার গোল ৬টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। তার চেয়ে দীর্ঘ ধারার রেকর্ড আছে মাত্র তিনজনের- আরলিং হালান্ড, রবিন ফন পার্সি ও অ্যান্ড্রু কোল। তিনজনেরই ধারাটি ছিল ৯ ম্যাচের।
৫: চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্ট করা পঞ্চম খেলোয়াড় হলেন মরগ্যান রজার্স। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা (২০১০-১১), সেস ফ্যাব্রেগাস (২০১৪-১৫), দিয়েগো কস্তা (২০১৪-১৫ ও ২০১৬-১৭) এবং এডেন হ্যাজার্ড (২০১৮-১৯)।
Tottenham still have not scored a goal this Premier League season pic.twitter.com/5moTdrZ1AX
— ESPN FC (@ESPNFC) September 12, 2026
৪: অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ৪ ম্যাচেই ড্র করেছে লিভারপুল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৮ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এটাই অ্যানফিল্ডে তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন ধারা। সেই ৮ ম্যাচে লিভারপুলের ফল ছিল ২ জয়, ৬ ড্র ও কোনো হার।
স্প্যানিশ লা লিগা
৩: একুশ শতকে লা লিগার মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তিনটি জোড়া গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়েই এই কীর্তি গড়েছিলেন লিওনেল মেসি।
৯: ২০২৬-২৭ লা লিগায় বার্সেলোনার প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৯টি গোলে অবদান রেখেছেন রাফিনহা- ৬ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ের এর চেয়ে বেশি গোল-অবদান ছিল সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমে। সেবার মেসির গোল-অবদান ছিল ১০টি, ৯ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট।
২: ১৯ বছর ১১৫ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে একুশ শতকে লা লিগায় গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডিফেন্ডার হয়েছেন জাভি এসপার্ট। বার্সেলোনার হয়ে তার চেয়ে কম বয়সে গোল করা একমাত্র ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিরোনার বিপক্ষে ১৯ বছর ২৫ দিন বয়সে গোল করেছিলেন তিনি।
৫: মৌসুমের শুরুতে টানা ৫টি লা লিগা ম্যাচ জিতেছে বার্সেলোনা। গোল ব্যবধানও +১৭। বার্সেলোনার ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে এমন জয় ও গোল ব্যবধানের কীর্তি তৃতীয়বার। সর্বশেষ তারা এমন শুরু করেছিল ২০১৭-১৮ মৌসুমে।
১৭: সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে লা লিগার কোনো ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটের মধ্যে গোল ও অ্যাসিস্ট করা রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এস্পানিওলের বিপক্ষে হামেস রদ্রিগেজের পর আর কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেননি।
৬: ২০২৬-২৭ লা লিগায় ৬ গোল করেছেন এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মৌসুমের প্রথম পাঁচ লা লিগা ম্যাচে ৬ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় তিনি নন; সর্বশেষ এই কীর্তি করেছিলেন করিম বেনজেমা, ২০২১-২২ মৌসুমে।
৫: লা লিগায় চলতি মৌসুমে জুড বেলিংহামের গোল ৩টি, অ্যাসিস্ট ২টি- মোট গোল-অবদান ৫টি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে অভিষেকের পর প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল- অবদানের পর এবারই তার সেরা শুরু।
26 G/A THROUGH SIX GAMES
— ESPN FC (@ESPNFC) September 13, 2026
Raphinha - 8 goals and 3 assists
Lamine Yamal - 7 goals and 2 assists
Fermín López - 4 goals and 2 assists
Anthony Gordon - 4 assists
Karim Adeyemi - 3 goals and 1 assist
Barcelona's attack is nearly unstoppable to start the season pic.twitter.com/YCRrqDi23s
৮: লা লিগায় এমবাপের ৮টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন আরদা গুলের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত তিন মৌসুমে কোনো সতীর্থের গোলের জন্য এতবার অ্যাসিস্ট করা আর কেউ নেই।
ইতালিয়ান সিরি আ
১৯ বছর ২৮ দিন: ফিওরেন্তিনার হয়ে ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ জয়ে তিন গোল করে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে হ্যাটট্রিক করা সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় এখন তিনি। মেসিকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মাস্তানতুয়ানো।
২২ বছর ৩৭ দিন: এসির হয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এক ম্যাচে একাধিক গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন দিয়েগো মোরেইরা। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে হিসাব করলে সিরি আতে এসির কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে জোড়া গোল করার ক্ষেত্রে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।
০: সাসুওলোর বিপক্ষে জুভেন্টাসের শুরুর একাদশে ১০ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ইতালিয়ানও ছিলেন না। জুভেন্টাসের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশের ১০ আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের একজনও ইতালিয়ান না থাকার ঘটনা এটাই প্রথম।
৪৯: ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে গত পাঁচ সিরি আ মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে ৪৯ গোল করেছে এসি মিলান। এই সময়ে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে লাজিও পেয়েছে ৫০ গোল, যা সবচেয়ে বেশি।
বুন্দেসলিগা
৯৯: এসভি এলভার্সবার্গের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম বুন্দেসলিগা গোল করেছেন হ্যারি কেইন। এটি ছিল বুন্দেসলিগায় ৯৭ ম্যাচে তার ৯৯তম গোল। এখন ১০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ১ গোল দূরে কেইন। বুন্দেসলিগায় সবচেয়ে দ্রুত ১০০ গোলের রেকর্ড এখন ডিয়েটার মুলারের দখলে। কোলনের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোল করেছিলেন তিনি।
৫০০: বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০০তম ম্যাচ খেলেছেন জশুয়া কিমিখ। এই ৫০০ ম্যাচে তার গোল ৪৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১২২টি।
ফরাসী লিগ ওয়ান
৬: পিএসজির হয়ে পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন ফেরান তোরেস। ব্রেস্টের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে গোল করে তিনি প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে ৬ গোলের কীর্তি গড়েছেন। এই কীর্তিতে তিনি ছুঁয়েছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে। পিএসজির হয়ে লিগ মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জ্লাতানও ৬ গোল করেছিলেন।
আইএইচএস/