আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে
আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের যে ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তরফে এসেছে, সেটাকে সম্ভাব্য হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল সোমবার ইসির বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এবার সাড়ে চার হাজার ইউপিতে ৭ ধাপে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট হওয়ার কথা বলেন তিনি।
ইসির এ ঘোষণার পরদিন আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না।
ইসি ও সরকারের দুই ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটি দায়িত্ব- এক জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দুই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা। এর বাইরে বলা আছে আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা নির্বাচনসংক্রান্ত।
স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখানে আইনে এমন কিছু নাই যে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া করতে পারে। এটা সমন্বয়ের ব্যাপার।
নির্বাচন কমিশন সোমবার যে দিনক্ষণ দিয়েছে, সেটাকে সম্ভাব্য মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টেনটেটিভ (চূড়ান্ত নয়) বলে মনে হচ্ছে, একটা সম্ভাব্য সূচি তারা দিয়েছে। এটাকে মিডিয়া হয়তো অন্যভাবে নিউজ করেছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে এত তারিখ নির্বাচন হবে। ওরা বলেছে এটা একটা সম্ভাব্য পরিকল্পনা। টেনটেটিভ প্ল্যানের ওপরে তো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা ডাকার তথ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সচিবরা মতামত দেবেন। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার আলোকে ভবিষ্যতের নির্বাচনের তফসিলগুলো সাজাবেন। মনে হয় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর নির্বাচনের সূচি ঘোষণা হবে।
গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল হওয়ার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।
জবাবে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে তাদের অপতৎপরতা চালায়। মাঝেমধ্যে তারা দুয়েকটা মিছিল করে, ভিডিও করে আমরা দেখেছি অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে। কিন্তু গুলশানের ঘটনা হচ্ছে তারা দিনের বেলায় করেছে বেলা ১১টায়। জুমার নামাজ আদায় করার নাম করে ওখানে কিছু লোক জড়ো হয়ে কিছু করেছে। এখানে আমরা পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।
গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও আওয়ামী লীগের মিছিল করাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ছিল। আমাদের পুলিশ বাহিনী শুক্রবার হয়তো আন্দাজ করতে সক্ষম হয়নি যে, ওই সময়, ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। সেটাকে ব্যর্থতা বলার কোনো সুযোগ নেই।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রসঙ্গে করা প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা ডিসিপ্লিনে আনার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা নীতিমালা হয়েছে। আর যেগুলো বিভিন্ন চার্জিং পয়েন্ট, সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এটা চলমান থাকবে। তবে আমরা চাই না রাতারাতি অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাক।
টিটি/কেএসআর




