স্ত্রীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ছেলের
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সহধর্মিণী আয়েশা বেগম না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মাত্র তিন মাস আগে। মাতৃহীন তিন বছরের কোলঘেঁষা অবুঝ সন্তান আব্দুর রহমানকে একা বাড়িতে রেখে স্কুলে আসার উপায় ছিল না শিক্ষক বাবা আব্দুল কাদেরের। তাই প্রতিদিনের মতো ছোট্ট ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই স্কুলে এসেছিলেন তিনি। বারান্দায় ছেলেকে খেলতে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যস্ত ছিলেন বাবা। কিন্তু সেই খেলাই যে সন্তানের জীবনের শেষ খেলা হবে, তা কে জানত!
খেলার ছলেই সবার অজান্তে স্কুল ভবন থেকে বের হয়ে স্কুলের সামনের পুকুরে পড়ে ডুবে প্রাণ গেছে শিশুটির। স্ত্রীকে হারানোর শোকের ক্ষত তাজা থাকতেই চোখের সামনে ফুটফুটে সন্তানকে হারিয়ে এখন পাথর হয়ে গেছেন শিক্ষক আব্দুল কাদের। হৃদয়বিদারক এই ট্র্যাজেডিতে মুহূর্তে নিভে গেল একটি পরিবারের সবটুকু আনন্দ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান উপজেলার সকদিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদেরের কনিষ্ঠ সন্তান। শিশুটির প্রয়াত মা আয়েশা বেগমও গোবারচিত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।
শিশুর বাবা আব্দুল কাদের বলেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে আব্দুর রহমান সবার ছোট। বাড়িতে দেখাশোনার কেউ না থাকায় আমার কর্মস্থল সরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতাম। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে স্কুলের বারান্দায় খেলা করছিল। কিছুক্ষণ ছেলের সাড়াশব্দ না পেয়ে ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, স্কুলের পুকুরের পানিতে ভেসে আছে আমার কলিজার টুকরো সন্তান। এসময় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোজাম্মেল বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়।
মাত্র তিন মাস আগে সহধর্মিণীকে হারানো আব্দুল কাদেরের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সকদিরামপুর গ্রাম ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
শরীফুল ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম
