হজ এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া টাকার জাকাত দিতে হবে?
প্রশ্ন: হজের জন্য টাকা জমা রাখলে ওই টাকার জাকাত দিতে হয় বলে জানি। প্রশ্ন হলো, হজের জন্য যে টাকা হজ এজেন্সিকে দিয়ে দিয়েছি, হজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কি ওই টাকার জাকাত দিতে হবে?
উত্তর: যে টাকা হজের খরচ বাবদ হব এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, ওই টাকার জাকাত আপনাকে দিতে হবে না। কারণ আপনি এখনো হজে না গেলেও আপনার টাকা জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সার্ভিস দেওয়ার শর্তে ওই টাকার মালিক এজেন্সি হয়ে যায়। তাই ওই টাকার জাকাত আর আপনার ওপর আসবে না।
কেউ যদি ভবিষ্যতে হজে যাওয়ার নিয়ত করে নিজের কাছেই টাকা জমা রাখে এবং তা নেসাব পরিমাণ হয় এবং নেসাব পরিমাণ টাকা এক বছর ধরে জমা থাকে, তাহলে ওই টাকার জাকাত আদায় করতে হবে।
জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির মালিকানায় শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ হিজরি ১ বছর ধরে কারও কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ দান করতে হয়।

অগ্রিম জাকাত আদায়ের বিধান
জাকাত ওয়াজিব হয় বর্ধনশীল সম্পদের ওপর যা ৪ ধরনের হয়ে থাকে
- স্বর্ণ
- রৌপ্য
- ব্যবসায়িক পণ্য
- নগদ অর্থ
কেউ যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্যের মালিক থাকে অথবা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণের মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ তার কাছে থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবে এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। নগদ অর্থ, স্বর্ণ/ রৌপ্য বা ব্যবসার সম্পদ যেদিন নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু হবে। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থ, ব্যবসার সম্পদ, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করে দিতে হবে।
কেউ এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক থাকলে নিজের মালিকানাধীন সমুদয় বর্ধনশীল সম্পদের জাকাত দিতে হবে; শুধু যে সম্পদ এক বছর ধরে তার কাছে রয়েছে ওই সম্পদের নয়। সে বছরের শেষে বা মাঝামাঝি সময়ে কিছু অর্থ বা স্বর্ণ লাভ করে থাকলে তাও জাকাতের হিসেবে যুক্ত হবে।
মানুষের স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদির ওপরও জাকাত ওয়াজিব হয় না যদি সেগুলো ব্যবসার পণ্য না হয়। একইভাবে যে গাড়ি বা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, ওই গাড়ি বা বাড়িরও জাকাত দিতে হয় না। যেহেতু সেগুলো অর্থ আয়ের মাধ্যম হলেও ব্যবসার পণ্য নয়।

শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দেওয়া যাবে কি?
ওএফএফ


