হলফনামায় ‘ভুয়া শিক্ষাগত সনদ’ দাখিলের অভিযোগ এমপি নয়নের বিরুদ্ধে

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনী হলফনামায় জাল শিক্ষাগত সনদ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তার সদস্যপদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ওই আসনের এক ভোটার।  রিটে একই সঙ্গে ভুয়া সনদ অনুসন্ধানের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। এ রিটের শুনানি ‘নট টু ডে’ ...

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনী হলফনামায় জাল শিক্ষাগত সনদ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তার সদস্যপদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ওই আসনের এক ভোটার। 

রিটে একই সঙ্গে ভুয়া সনদ অনুসন্ধানের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। এ রিটের শুনানি ‘নট টু ডে’ (আজ নয়) করে পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য রেখেছেন হাইকোর্ট।

রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আলভী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিটটি করেছেন ভোলা-৪ আসনের ভোটার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচনী হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) উল্লেখ করে ইবাইস ইউনিভার্সিটির নামে একটি সনদ দাখিল করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওই সনদটি তাদের নয় বলে জানানো হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়ে মো. নুরুল ইসলাম নয়ন ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করেছেন।

রিটে বলা হয়েছে, সংসদীয় আসন নম্বর ১১৮, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন মো. নুরুল ইসলাম নয়ন।

নির্বাচনী হলফনামায় তিনি তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ উল্লেখ করেন। সেখানে ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইথ মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট’, সিজিপিএ ৩.২৮, নভেম্বর ২০০৮-এর একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিটকারীর দাবি, ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই সনদটি জাল এবং এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নয় বলে জানিয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও রিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথা প্রচার করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বলেও দাবি করেছেন।

তবে রিটকারীর দাবি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের নথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট শাখায় মো. নুরুল ইসলাম নয়ন, পিতা মো. মহিউদ্দিন মিয়া নামে ইংরেজি বিভাগের ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে রিটকারীর দাবি, নয়ন কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। অথচ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করেছেন।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মো. নুরুল ইসলাম নয়ন বর্তমানে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একাধিকবারের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া রিটকারীর আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মো. নুরুল ইসলাম নয়ন তার হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘এমএ’ বা মাস্টার অব আর্টস উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তিনি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমবিএ উল্লেখ করেন।

রিটকারীর অভিযোগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১এফ ধারায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এফএইচ/কেএসআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/law-courts/news/1157727
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World