এক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন অনিয়ম
চট্টগ্রাম বন্দরে এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন ছলচাতুরির আশ্রয়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে কনিষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে করা হয়েছে নানামুখী অনিয়ম।
ভুক্তভোগী দাবি করে চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-১ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন অভিযোগ করেছেন মন্ত্রণালয়ে। তাকে ডিঙিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-২ মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন শিহাব উদ্দিন।
জাগো নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অনিয়ম। মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে দেওয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের সাতটি ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। অন্য দুটি দেন বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদ। সাতটি অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারের মধ্যে মাত্র একটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মেমো নম্বর থাকলেও অন্য ছয়টিতে নেই। একটিতে কোনো তারিখও নেই।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সম্পৃক্ততা নেই এমন প্রকল্পেও রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’। আবার ১০ মাসের প্রশিক্ষণে বিদেশে অবস্থান করার সময়ে সংগঠিত কাজের জন্যও দেওয়া হয়েছে এমন ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে কাজ করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত শিহাব উদ্দিন, কিন্তু ওই কাজের জন্য ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে।
জাগো নিউজের হাতে আসা বেশ কিছু নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৮ জুন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) পদে পদোন্নতির বিভাগীয় পদোন্নতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) পদটি অবসরজনিত কারণে শূন্য। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী উক্ত পদের উপযুক্ত প্রার্থী দুজন। মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ওই সভায় রায়হান উদ্দিনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে বন্দর চেয়ারম্যানের পাঁচটি এবং একই সময়ে সদস্যের (প্রকৌশল) দুটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশনকে মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে- বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমি অতি কমমূল্যে অধিগ্রহণের স্বীকৃতি- ০২/০৮/২৫ ইং; লালদিয়ার চর এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের স্বীকৃতি- ১১/০৮/২৫ ইং; পানগাঁও আইসিটি অপারেশনাল কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে কমমূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/০৮/২৫ইং; বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৫০০ দশমিক ৭০১ একর খাসজমি অতি কমমূল্যে ভূমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বন্দরের ১১৯৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করার স্বীকৃতি- ২৩/১০/২৫ ইং; বে-টার্মিনাল পিপিপি প্রকল্পের ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর নিয়োগে ৩৭০ কোটি টাকার চুক্তি ২৫ দশমিক ৫ কোটি টাকায় সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/১১/২৫ ইং। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সদস্য (সদস্য-প্রকৌশল) থেকে তিনি ২০২৫ সালে দুটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রাপ্ত হন বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে যেন ‘অনিয়মই নিয়ম’
কার্যবিবরণীতে ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমি অতি কমমূল্যে অধিগ্রহণের স্বীকৃতি-০২/০৮/২৫ ইং’ উল্লেখ করা হলেও জাগো নিউজের হাতে থাকা ওই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে দেখা যায়, চিঠিটি ২০২৪ সালের ২ আগস্টের। ওই সময়ে বন্দরের চেয়ারম্যান ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইল। যিনি বর্তমানে কারাবন্দি। একমাত্র ওই চিঠিতেই পত্রের মেমো নম্বর লেখা ছিল।
কার্যবিবরণীতে ৪ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৫০০ দশমিক ৭০১ একর খাসজমি অতি কমমূল্যে ভূমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বন্দরের ১১৯৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করার স্বীকৃতি- ২৩/১০/২৫ ইং’ উল্লেখ রয়েছে। অথচ ৫০০ দশমিক ৭০১ জমি প্রতীকী মূল্যে কেনার প্রক্রিয়া হয়েছে শিহাব উদ্দিনের মাধ্যমে।
একই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে রায়হান উদ্দিনের অসাধারণ প্রচেষ্টায় নগরের পূর্ব পতেঙ্গা মৌজায় কর্ণফুলী পাড়ের ৭ একর এবং ৩ দশমিক ৬৬ একর জমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য লিজ দিয়ে বন্দর কমবেশি ৫৫০ কোটি টাকা আয় করবে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ টেন্ডার ছাড়াই ৩ দশমিক ৬৬ এর জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এ নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।
তাছাড়া বে-টার্মিনাল নিয়ে এই দুটি আলাদা অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেওয়া হলেও জাগো নিউজের অনুসন্ধান বলছে, ৮৮০ একর জমির মধ্যে ৫০০ দশমিক ৭০১ জমি অন্তর্ভুক্ত। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমির মধ্যে ৫০০ দশমিক ৭০১ একর সরকারি খাসজমি, ১৮৮ দশমিক ০৭১১ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলা জটিলতা সংক্রান্ত, ১২৪ একর বনবিভাগের এবং ৬৬ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি।
এসব জমি অধিগ্রহণের কাজ করেছেন ওই সময়ের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন। ৫০০ দশমিক ৭০১ একর জমি প্রতীকী মূল্য পরিশোধের জন্য ২০২৪ সালের ১৪ মে তারিখে জেলা প্রশাসনকে লেখা ৩ কোটি তিন টাকার পে-অর্ডারের চিঠিটিতেও স্বাক্ষর করেন শিহাব উদ্দিন। এর আগে প্রতীকী মূল্যে জমি পাওয়ার বিষয়ে বন্দরের ২০২৩ তারিখের ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখের চিঠিটিও শিহাব উদ্দিনের স্বাক্ষরিত। ওই বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে বন্দরের প্রতিনিধিত্ব করেন শিহাব।
কার্যবিবরণীতে ২ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে ‘লালদিয়ার চর এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের স্বীকৃতি- ১১/০৮/২৫ ইং’ কথা উল্লেখ রয়েছে। যেটি রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া হয়। কিন্তু জাগো নিউজের হাতে আসা নথি বলছে- লালদিয়ার চরের জমিগুলো অবৈধ দখল উচ্ছেদ হয় ২০২০ সালের ১-৩ মার্চ। ওই সময় বন্দর চেয়ারম্যান ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। তখন বন্দরের উপব্যবস্থাপক (ভূমি) ছিলেন জিল্লুর রহমান।
অথচ ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান নিজ স্বাক্ষরে রায়হান উদ্দিনকে অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনপরবর্তী বন্দরের দখলে থাকা লালদিয়া চরের জমিতে কিছু অবৈধ দখলদার স্থাপনা নির্মাণ করে। ওই দখল উচ্ছেদে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নোট উপস্থাপনসহ যাবতীয় পদক্ষেপ নেন শিহাব উদ্দিন।
কার্যবিবরণীতে ৩ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারটিও ‘পানগাঁও আইসিটি অপারেশনাল কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে কম মূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/০৮/২৫ইং’ দেওয়া হয় রায়হান উদ্দিনকে। জাগো নিউজের হাতে আসা নথি বলছে, পানগাঁও আইসিটির জন্য কম মূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে রায়হান উদ্দিনের ভূমিকা ছিল না। শুধু ফাইলিং করার জন্য ইজারা সংক্রান্ত কাজের চিঠির অনুলিপি দেওয়া হতো রায়হান উদ্দিনকে।
বিআইডব্লিউটিএ তাদের ২০১৯ সালের অনুমোদিত শুল্কহার অনুযায়ী নির্ধারিত ইজারামূল্য পরিশোধের জন্য ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সমঝোতা চুক্তি করে। সমঝোতা চুক্তিতে প্রথম পক্ষ লাইসেন্সদাতা হিসেবে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা ও দ্বিতীয় পক্ষ লাইসেন্স গ্রহীতা হিসেবে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বন্দরের পক্ষে সদস্য (প্রকৌশল) কমোডের কাওছার রশীদ ও টার্মিনাল ম্যানেজার আশরাফ করিম চৌধুরী সাক্ষী হিসেবে সই করেন।
এ বিষয়ে শিহাব উদ্দিনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। তাও যথাযথভাবে দাপ্তরিক জবাব দেওয়া হবে।-চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন
পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইজারামূল্য নির্ধারণ করেছে লাইসেন্সদাতা প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ। শুল্কের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের একটি অনুমোদিত শুল্ক হার রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর। তাছাড়া পানগাঁও আইসিটির জায়গা ইজারা নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে চুক্তি হয় ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু রায়হান উদ্দিনকে অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেওয়া হয় তারও দেড় মাস আগে একই বছরের ২৭ আগস্ট।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ঠিকাদার পেন্টাওশান-টিওএ জেভির সাথে সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্টের (প্যাকেজ-১) দরপত্র মূল্যায়নে ১১শ কোটি টাকা বাঁচিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য রায়হান উদ্দিনকে একটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন দেন বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদ। জাগো নিউজের হাতে আসা ওই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারটিতে কোনো তারিখ নেই। কাওছার রশীদ সাবেক প্রকল্প পরিচালক উল্লেখ করে চিঠিটিতে সই করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিনের একটি অভিযোগের আপিল আমার কাছে এসেছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবো।-আপিল কর্মকর্তা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল
জাগো নিউজের অনুসন্ধান বলছে, ওই দরপত্র মূল্যায়ন হয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। তখন কাওছার রশীদ চট্টগ্রাম বন্দরেই যোগ দেননি। পাশাপাশি ওই দরপত্র মূল্যায়নকালীন রায়হান উদ্দিন ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ মাসের উচ্চশিক্ষা ছুটিতে সুইডেনে অবস্থান করছিলেন। তাছাড়া ওই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে ছিল না রায়হান উদ্দিনের নাম। ওই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) আহ্বায়ক ছিলেন ওই সময়ের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
এ বিষয়ে জানতে বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে পদোন্নতি পাওয়া উপ-ব্যবস্থাপক (ভূমি) মো. রায়হান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এ বিষয়ে বন্দরের মুখপাত্র হিসেবে সচিব স্যারই কথা বলেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও সাড়া দেননি। গত ৮ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক মেইলে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে মেইল করলেও কোনো প্রত্যুত্তর আসেনি।
একই মেইলে সিসি (অনুলিপি) দেওয়া হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ও বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের দাপ্তরিক মেইলেও। এ বিষয়ে কথা হলে সৈয়দ রেফায়েত হামিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারকে যখন মেইল করেছেন, তখন অপেক্ষা করেন, তিনি কী উত্তর দেন।’
জানতে চাইলে অভিযোগকারী চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-১ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছি এটি সত্য, কিন্তু গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দরের আপিল নিষ্পত্তি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়ালের কাছে করা আপিলের একটি কপি সংগ্রহ করেছে জাগো নিউজ। তাতে উল্লেখ করা হয়, শিহাব ২০১৮ সালে মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে বন্দরে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে তাকে উপ-ব্যবস্থাপকের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কাজ করিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু চলতি বছরের ২৮ জুন তাকে চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পদোন্নতির বৈধ অধিকারকে বিবেচনা না করে মেধাক্রমে জুনিয়র কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ বিগত পাঁচ বছরে তার এসিআরের গড় নম্বর ছিল ৯৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি শাখার পদোন্নতিতে ১৪০ বছরের প্রথা ভঙ্গ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে শিহাব উদ্দিনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। তাও যথাযথভাবে দাপ্তরিক জবাব দেওয়া হবে।’
আপিল কর্মকর্তা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিনের একটি অভিযোগের আপিল আমার কাছে এসেছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবো।’
এমডিআইএইচ/এএসএ/ এমএফএ





