বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর ইলিশের প্রধান পাইকারি মোকাম পোর্ট ...

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর ইলিশের প্রধান পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোকামগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় ধরনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি আসছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে দামও। আর এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝেও।

পোর্ট রোড বাজারে মাছ কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে এক কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আজ একই সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।’ তাই আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমায় দুই কেজি মাছ কিনেছেন বলে জানান।

নগরীর বাংলাবাজারে মাছ কিনতে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ কিনেছি ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। একই সাইজের ইলিশ আজ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।’

পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে ৪টায় এক কেজি হয় এমন ইলিশ ১ হাজার টাকায় কিনেছেন। এ সপ্তাহে সেই মাছ কিনেছেন ৬০০ টাকা কেজিতে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে কিনছেন, যেখানে আগে দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।’

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জহির শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে ইলিশ এসেছিল প্রায় ৭৫ মণ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৬০ মণ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।’ এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, সাতদিন আগে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই মাছ বিক্রি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। একইভাবে, এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম এক লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

এছাড়া এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা, যা এখন ৯৬ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৮০ হাজার, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মাছ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও ছোট আকারের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৫৫ হাজার টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণপ্রতি দাম ৪২ হাজার টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। এর চেয়েও ছোট আকারের ইলিশের দাম ৩২ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা মণ।

জহির শিকদার বলেন, গত বছর ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়েছিল। এবার জেলে ও ব্যবসায়ীরা ৩০ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কারণ এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। অক্টোবরের শেষ দিকে অভিযান শুরু হলে তখন ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে এবং প্রতি কেজির দাম অর্ধেকে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

হিজলার জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে ইলিশের সংকট ছিল। তবে গত চার-পাঁচ দিন ধরে জালে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। এ কারণে অক্টোবরের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত চার-পাঁচদিন ধরে বরিশালে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় মোকামগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ ইলিশ যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৈঠক চলছে, সেখানে ব্যবসায়ী ও জেলেদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হবে। ইলিশের পেটে ডিম আসার পরই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।’

বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগে ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৪ টন।

শাওন খান/কেজে/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157762
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World