দোকান নেই তবুও এমএফএস অ্যাকাউন্ট, অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন
দোকানের অস্তিত্ব নেই, অথচ সেই দোকানের তথ্য ব্যবহার করে খোলা হয়েছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট। এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতাররা হলেন- সজীব দে (৩৭) ও মো. মাসুদ রানা (৩০)। ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পায়। চক্রটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করতো।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে সিআইডি জানায়, চক্রটি ভুয়া কিংবা অস্তিত্বহীন দোকানের তথ্য ব্যবহার করে এমএফএস উদ্যোক্তা সিম ও অ্যাকাউন্ট খুলতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোকান না থাকলেও এসব অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো।
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ পরে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো।
এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে গত ৩১ আগস্ট পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামপুরার ৬৭, পূর্ব হাজীপাড়ার এসএস কর্পোরেশনে (নগদ হাউজ) অভিযান চালায় সিআইডি। সেখান থেকে সজীব দে ও মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহারে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টিটি/এএমএ
