ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা
বিশ্বের গাড়ি বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি হাইব্রিডের চাহিদাও বাড়ছে। জ্বালানি চালিত গাড়ির ব্যবহারিক সুবিধা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধার মাঝামাঝি সমাধান হিসেবে প্লাগ-ইন হাইব্রিডকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন নির্মাতা। এবার সেই বাজারে বড় ধরনের উন্নয়ন নিয়ে আসছে ভলভো। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০ প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভিতে আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ থাকছে।
নতুন এক্সসি৬০ প্লাগ-ইন হাইব্রিড একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৭৮ মাইল বা ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলতে পারবে। জ্বালানি ও পূর্ণ চার্জ মিলিয়ে গাড়িটির মোট রেঞ্জ প্রায় ৫৯০ মাইল বা ৯৫০ কিলোমিটার।
বড় ব্যাটারি, একই ইঞ্জিন
নতুন মডেল দুটিতে আগের মতোই ২.০ লিটারের টার্বোচার্জড চার সিলিন্ডার ইঞ্জিনের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার বড় ব্যাটারি প্যাক যুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ব্যাটারি ধারণক্ষমতা ৪১ দশমিক ২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, যার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ৩৭ দশমিক ৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়লেও গাড়িটির মোট শক্তি উৎপাদনে পরিবর্তন আসেনি। অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৪৫৫ হর্সপাওয়ার শক্তি দেবে এক্সসি৬০। আগের মডেলের প্রায় ৩৫ মাইল বৈদ্যুতিক রেঞ্জের তুলনায় নতুন মডেলে তা বেড়ে হয়েছে ৭৮ মাইল। তিন সারির বড় এক্সসি৯০-তেও একই পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবার চার্জে প্রায় ৭৩ মাইল বা ১১৭ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক রেঞ্জ দেবে। পেট্রোলের ট্যাংকসহ মোট রেঞ্জ হবে প্রায় ৫৬০ মাইল বা ৯০০ কিলোমিটার।
বৈদ্যুতিক রেঞ্জ বাড়ায় প্রতিদিনের যাতায়াতে গাড়ি দুটির ব্যবহার আরও সহজ হবে বলে মনে করছে ভলভো। অফিস, স্কুল বা দৈনন্দিন ছোট দূরত্বের যাতায়াতের বেশির ভাগই শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে করা সম্ভব হবে।
গতি সক্ষমতাতেও পিছিয়ে নেই গাড়িগুলো। এক্সসি৬০ টি৮ স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ৪ দশমিক ৫ সেকেন্ড। এক্সসি৯০ একই গতিতে পৌঁছাতে নেয় ৪ দশমিক ৯ সেকেন্ড।
প্লাগ-ইন হাইব্রিড না চাইলে এক্সসি৬০-এর বি৫ সংস্করণও থাকছে। মাইল্ড-হাইব্রিড এই মডেল সর্বোচ্চ ২৪৭ হর্সপাওয়ার শক্তি ও ২৬৬ পাউন্ড-ফুট টর্ক উৎপন্ন করবে। এক্সসি৯০-তেও বি৫ সংস্করণের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী বি৬ মাইল্ড-হাইব্রিড সংস্করণ থাকছে, যার শক্তি ২৯৫ হর্সপাওয়ার।
আরও স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নতুন এক্সসি৬০-এ পাওয়ারট্রেনের পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রযুক্তিতেও উন্নয়ন করা হয়েছে। গাড়ির সামনের অংশে অতিরিক্ত একটি রাডার সেন্সর যুক্ত হয়েছে, যা সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াবে। এ ছাড়া গাড়ির চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এসব সেন্সর ও ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য একত্রে বিশ্লেষণের জন্য যুক্ত হয়েছে আরও শক্তিশালী প্রসেসর।
এই প্রযুক্তির সুবিধায় নতুন লেন পরিবর্তন সহায়তা ফিচার যুক্ত হয়েছে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেন পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারবে। নতুন প্রসেসরের কারণে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে আরও নতুন ফিচার যুক্ত করার সুযোগও থাকছে।
অভ্যন্তরে বড় পর্দা, জেমিনি
গাড়ির ভেতরের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও প্রযুক্তিতে উন্নয়ন করা হয়েছে। এক্সসি৬০-এ রয়েছে ১১ দশমিক ২ ইঞ্চির উল্লম্ব ডিসপ্লে। আগের তুলনায় বড় এই পর্দায় বিভিন্ন ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গুগলচালিত ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে এবার জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও যুক্ত হয়েছে। ফলে গাড়ির ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কথোপকথন ও সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ভলভো গাড়িতে থাকা ভলিউম নিয়ন্ত্রণের বোতামসহ সীমিতসংখ্যক ফিজিক্যাল নিয়ন্ত্রণও রেখেছে।
নকশায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন
নতুন এক্সসি৬০-এর বাইরের নকশায় খুব বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। সামনের দরজার আগের অংশে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে নতুন অ্যাক্টিভ-ম্যাট্রিক্স এলইডি হেডলাইট যুক্ত হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আলোর নির্দিষ্ট অংশ কমিয়ে দিতে পারে। এতে সামনের রাস্তা আলোকিত রাখার পাশাপাশি বিপরীত দিকের গাড়ির চালকের চোখে অতিরিক্ত আলো পড়ার ঝুঁকি কমবে। পেছনের অংশেও নতুন লিফটগেট, বাম্পার ও এলইডি টেললাইট যুক্ত হয়েছে। তবে দূর থেকে দেখলে পরিবর্তনগুলো খুব সহজে চোখে পড়বে না।
ভলভোর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান নকশার সরলতা বজায় রেখে নতুন এক্সসি৬০-এ আগের তুলনায় কিছু ক্রিজ, ভেন্ট ও বাড়তি নকশাগত উপাদান কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে এক্সসি৯০-এর বাইরের পরিবর্তন আরও সামান্য। মূল পরিবর্তন হিসেবে পেছনে ‘লং রেঞ্জ’ লেখা নতুন ব্যাজ যুক্ত হয়েছে, যা গাড়িটির বাড়তি বৈদ্যুতিক রেঞ্জের বিষয়টি নির্দেশ করে। এর বাইরে বর্তমান এক্সসি৯০-এর নকশাই মূলত বহাল থাকছে।
দাম ও বাজারে আসার সময়
নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০-এর দাম এখনো ঘোষণা করেনি ভলভো। তবে বড় ব্যাটারি ও অতিরিক্ত প্রযুক্তির কারণে আগের মডেলের তুলনায় দাম বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের এক্সসি৬০ টি৮-এর শুরুর দাম ৬২ হাজার ৫৪৫ মার্কিন ডলার এবং এক্সসি৯০ টি৮-এর শুরুর দাম ৭৭ হাজার ৫৯৫ মার্কিন ডলার ছিল। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নতুন মডেল দুটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ডিলারদের কাছে পৌঁছাতে পারে।
নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০-এর মূল লক্ষ্য হলো-প্রচলিত জ্বালানি চালিত গাড়ির ব্যবহারিক সুবিধা ধরে রেখে বৈদ্যুতিক গাড়ির অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দ্বিগুণের বেশি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজনের ফলে প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভির বাজারে ভলভোর এই দুই মডেল নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: এনগ্যাজেট
শাহজালাল/কেএসকে




