‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-অনাহারে থাকা বৃদ্ধ দম্পতির আকুতির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতি শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। এরপর ত...

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-অনাহারে থাকা বৃদ্ধ দম্পতির আকুতির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতি শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। এরপর তাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সবার নজরে আসে।

শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ওই দম্পতির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাদের শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান এবং হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা হাসপাতালে ভর্তি ওই দম্পতিকে দেখতে যান এবং অসুস্থ বৃদ্ধার জন্য একটি হুইল চেয়ার উপহার দেন। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণসহ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর আগে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে খাবার ও নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসেন।

এদিকে ওই অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির খোঁজখবর নিতে আবদীন হাসপাতালে যান শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে খাদ্যদ্রব্য সহায়তা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সের সাজু শেখ ও ৮০ বছর বয়সের নুরজাহানের বিয়ে হয়েছে প্রায় ৭০ বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই তারা সাজু শেখের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছেন। আর্থিক অনটনের কারণে সাজু শেখ একসময় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। সীমিত আয়েও দীর্ঘ সংসারজীবনে তাদের ভালোবাসায় কমতি ছিল না। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়েরই অনেক আগে বিয়ে হয়েছে। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন। তিন ছেলের একজন করোনাকালে নিরুদ্দেশ হলেও মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং তিনিও বছরে দু-একবার বাড়িতে আসেন।

শেরপুরে বসবাসকারী অপর ছেলে নুর ইসলাম দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার সাধ্যমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিজের সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। কয়েক বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার স্ত্রীও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে নুরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী। আর্থিক সংকটে স্বামী সাজু শেখ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। একইভাবে মায়ের চিকিৎসার জন্য অসহায় হয়ে পড়েছেন ছেলে নুর ইসলামও। তবু স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসায় নুরজাহান অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে ছেড়ে কোথাও যাননি সাজু শেখ।

শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে নুরজাহান এখন শারীরিকভাবে অক্ষম। বয়সের ভারে সাজু শেখও সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। বার্ধক্যের কারণে তিনিও বধির হয়ে গেছেন, জোরে কথা না বললে কারও কথা শুনতে পান না। তবু স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসায় দিনরাত তার পাশে থাকেন সাজু শেখ। নুরজাহান শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকালে তাকে কোলে করে ঘরের দরজার বাইরে উঠানে চটি বিছিয়ে শুইয়ে দেন তিনি। এরপর স্ত্রীর পাশে বসে সময় কাটান। নিজে কানে কম শুনলেও স্ত্রীর ইশারা বুঝে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। প্রস্রাব-পায়খানাসহ দৈনন্দিন সব কাজ কাঁপা হাতে ও ভঙ্গুর শরীর নিয়েই করে দিচ্ছেন সাজু শেখ।

স্থানীয়রা জানায়, সাজু শেখ অর্থের জন্য প্রায় মাঝেমধ্যে বাড়ির পাশে খুনুয়া বাজারে চলে আসেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু কঙ্কালসার দেহ দেখে কাজ দেবে কে। তাই বাজার ঘুরে পরক্ষণেই ফিরে আসেন স্ত্রীর কাছে। মাঝে মধ্যে আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করেন, ‘আমাদের দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে যাও আল্লাহ!’

সমাজকর্মী শামীম আহমেদ বলেন, জীবনযুদ্ধে মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতার কাছে হেরে যায়। আবার কখনো কখনো দরিদ্রতাকে জয় করে। শেরপুরে এমনই এক ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দম্পত্তি রয়েছে, যাদের ভালোবাসার কাছে দরিদ্রতা হেরে গেছে। শুধু তাই নয়, হেরে গেছে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগবালাই। পরিবারটির সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

রক্তসৈনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আল আমিন রাজু বলেন, ভিডিওটি নজরে আসলে আমার দ্রুত খোঁজখবর নেই। তারপর দেড় মাসের খাবারের জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের সংগঠনের পক্ষ হতে সাজু শেখের হাতে তুলে দিয়েছি। এছাড়াও প্রতিদিন হাসপাতালে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির শেরপুরের সভাপতি আলমগীর আল আমিন বলেন, খবরটি পাওয়ার পর আমরা খোঁজ নিয়েছি। এখন তাদের কাছে খাবারের মোটামুটি মজুত আছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজন। স্বামী স্ত্রী উভয়েই নানান রোগে জরাজীর্ণ হয়ে আছেন। চিকিৎসাব্যবস্থা যেনো চলমান থাকে, সেই ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বৃদ্ধ সাজু শেখ এবং নূরজাহান দম্পতিকে শেরপুর পৌর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিবারটির যেহেতু ঘরবাড়ির অবস্থা খুবই বেহাল, তাই নতুন একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। বৃদ্ধার চলার জন্য একটি হুইল চেয়ার দিয়ে এসেছি। এছাড়াও শুকনো খাবারসহ যা যা প্রয়োজন সব দেওয়া হয়েছে। আর খবর পাওয়া মাত্র আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমার বাবা আলহাজ্ব হযরত আলী তাদের বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিক যা যা প্রয়োজন তা দিয়ে এসেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে সাজু শেখ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে এমনই এক কষ্টের আকুতি করেন।

তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’ তাদের আর্তনাদ শুনে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

মো. নাঈম ইসলাম/এনএইচআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157799
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World