অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডিকে তলব
দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্তি রাজাপাকসেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে আর্থিক অপরাধ তদন্ত বিভাগে (এফসিআইডি) হাজির হতে বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা দুর্নীতির তদন্তগুলো আবারও সক্রিয় হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিল এই পরিবার।
সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে নোটিশ
শিরান্তি রাজাপাকসের বয়স ৭৩ বছর। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার কয়েক মিনিট আগে তাকে এফসিআইডির নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের মুখপাত্র মনোজ গামাগে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার ঠিক কয়েক মিনিট আগে শিরান্তির হাতে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি তদন্ত এড়াতে দেশ ছাড়ছেন—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন গামাগে।
তার ভাষ্য, শিরান্তি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন না; তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন।
ক্যানসার হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ
পুলিশ জানিয়েছে, শিরান্তির ‘সিরিলিয়া সাভিয়া’ নামের দাতব্য প্রতিষ্ঠান একটি স্থানীয় ক্যানসার হাসপাতালের জন্য পিইটি স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে প্রায় ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি বা প্রায় ৩০ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছিল।
তদন্তকারীরা আদালতকে জানিয়েছেন, ওই পিইটি স্ক্যানার এরই মধ্যে চীনা সরকার হাসপাতালটিকে অনুদান হিসেবে দিয়ে দিয়েছিল। এরপরও দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি স্ক্যানার কেনার নামে অনুদান সংগ্রহ অব্যাহত রাখে এবং সংগৃহীত অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে পরিবারের মুখপাত্র মনোজ গামাগে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার কথা
গামাগে জানান, শিরান্তি বর্তমানে চোখের চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর তিনি শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসবেন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
আইনি জটিলতায় রাজাপাকসের পরিবারের অন্য সদস্যরাও
রাজাপাকসে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বর্তমানে বিভিন্ন আইনি তদন্তের মুখে রয়েছেন।
সাবেক ফার্স্ট লেডির বড় ছেলে ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। ২০১৩ সালে তার বাবা মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় স্বাক্ষরিত একটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ চুক্তিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার একই এয়ারবাস চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থপাচারের অভিযোগে নামালের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ
রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং এখনও দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
তবে ২০২২ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব ও জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন ঘটে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম
