রেস্তোরাঁর টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্য
জার্মানিতে এক রেস্তোরাঁয় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ট্রান্সজেন্ডার নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রনস্টেইন আঞ্চলিক আদালতে এ বিষয়ে মামলার শুনানিতে নিজের দোষও স্বীকার করেছেন ওই পুলিশ সদস্য।
জজ আন্দ্রেয়া বার্টশমিড জানিয়েছেন, মাজা এস নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই ট্রান্সজেন্ডার নারী পুলিশ সদস্যের সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। খবর ডেইলি মেইলের।
গ্রেফতারের পর জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের ব্যামবার্গ কারাগারে ওই পুলিশ সদস্যকে নারী কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়। তবে, গত পাঁচ মাস ধরে তাকে স্ট্যাডহেইম কারাগারে পুরুষ বন্দিদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে।
জার্মান ট্যাবলয়েড বিল্ডকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলেন, পুরুষদের সঙ্গে রাখাটা প্রতিদিনকার জীবনে তার (অভিযুক্ত) কাছে বোঝার মতো। শারীরিক অনুশীলনের সময় তাকে উদ্দেশ্য করে শিষ বাজানো হয়। তার শারীরিক পরীক্ষাগুলোও পুরুষ অফিসাররাই করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ট্রান্সজেন্ডার পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শিশু ও প্রাণি পর্নোগ্রাফির ২ হাজারেরও বেশি ফাইল পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে একটি কালাশনিকভ বন্দুকও জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে তার অপরাধের শুরু। তিনি ওই বছর তিন বছর বয়সী শিশুদের যৌন নির্যাতনের মতো পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড করেছিলেন। এ ঘটনার পর তার বাসায় ও কর্মক্ষেত্রে পুলিশ অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে মাজা এসকে পুলিশ থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ১৯ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়।
যখন তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী ওই অপরাধের তদন্ত চলছিল তখন তিনি তার পরিচিত এক ব্যক্তির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাকেন। পরে তাকে ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
২০২৫ সালের আগস্টের এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন তার বাগদত্তা স্টেফানি মাজার মোবাইল ফোনে যৌন উত্তেজক কথোপকথন দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি প্রচণ্ড বিচলিত ও হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম এবং শিশুটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে সব ঠিক আছে কি না।
তিনি আরও বলেন, পরে ওই কিশোরী আমাকে জানায়, মাজা তাকে টয়লেটে নিয়ে যায় এবং তার মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে চুমু খায়।
পরে স্টেফানি নিজেই ওই কিশোরীর হয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।
আরও জানা যায়, মাজা ওই কিশোরীকে আরও একবার এক সুইমিং পুলে ঘুরে আসার পর নির্যাতন করেন।
এএমএ
