অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে যে ইতিহাস গড়লেন ব্রুক
২০২৬ সালটা যেন হ্যারি ব্রুকের নিজের করে নেওয়া। ব্যাট হাতে একের পর এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে চলেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এবার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা পূর্ণ সদস্য দেশের কোনো অধিনায়ক এর আগে করতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার সাউদাম্পটনে অপরাজিত ১১৪ রান করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ব্রুক। মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার ইনিংস থামে ৪৯ বলে ১১৪ রানে।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে এক ক্যালেন্ডার বছরে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম পূর্ণ সদস্য দেশের অধিনায়ক হয়েছেন ব্রুক।
পন্টিং-কোহলিদের পাশে ব্রুক
ব্রুকের এই কীর্তি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণে অধিনায়ক হিসেবে এক বছরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়দের বিশেষ তালিকায়ও নিয়ে গেছে। টেস্টে এক ক্যালেন্ডার বছরে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড রিকি পন্টিংয়ের। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে তিনি করেছিলেন ৭টি সেঞ্চুরি।
ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ২০১৭ ও ২০১৮ সালে করেছিলেন ৬টি করে সেঞ্চুরি। আর টি-টোয়েন্টিতে এখন সেই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে ব্রুক। ২০২৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে ২টি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন।
অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকাতেও ঢুকে পড়েছেন ব্রুক। মাত্র ২৩ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। তার ওপরে আছেন রোহিত শর্মা ও বাবর আজম- দুজনেরই সেঞ্চুরি ৩টি করে। তবে রোহিতের জন্য লেগেছে ৬২ ইনিংস, বাবরের ৭৮ ইনিংস। অর্থাৎ কম ইনিংসেই তিন সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গেছেন ব্রুক।
শেষ তিন ইনিংসে ২৮৮ রান!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রুকের ১১৪ রানের ইনিংসটি তার সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মের আরেকটি প্রমাণ। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সর্বশেষ তিন ইনিংসের স্কোর-
৭৯ (৩৫): ভারত*
৯৫ (৪৫: ভারত*
১১৪ (৪৯): শ্রীলঙ্কা*
তিন ইনিংসে মোট রান ২৮৮। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, তিনবারই অপরাজিত ছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এই তিন ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ২২৩.২৫। অর্থাৎ প্রায় প্রতি চার বলেই এক রান করে সংগ্রহ করেছেন তিনি। তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেছেন ব্রুক।
বাটলারের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটি
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। ব্রুকের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝড় তুলেছেন তার পূর্বসূরি ও সাবেক সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলার। দু’জন মিলে গড়েন ১২৮ রানের জুটি। বাটলারও ছিলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৪৪ বলে ৮০ রান করেন তিনি।
আর অন্য প্রান্তে ব্রুকের ৪৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডের ইনিংসকে নিয়ে যায় বিশাল সংগ্রহে। নির্ধারিত ওভারে ২৫৪ রান করে স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও শ্রীলঙ্কাকে কোনো সুযোগ দেয়নি ইংল্যান্ড। ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সনি বেকার। দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। জেমি ওভারটন পান ২ উইকেট। বিশেষ করে বেকারের গতির সামনে সমস্যায় পড়েন শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা।
তবে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন দুনিথ ওয়েলালাগে। দ্রুত ৩৩ রান করেন তিনি। শেষ দিকে এশান মালিঙ্গাও কিছু রান যোগ করেন। কিন্তু তাতে ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ১৯তম ওভার শেষ হওয়ার আগেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ১১৯ রানের বিশাল জয় পায় ইংল্যান্ড।
এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে থাকলেন হ্যারি ব্রুক। ৪৯ বলে ১১৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের পাশাপাশি তার নামের পাশে যুক্ত হলো এমন একটি রেকর্ড, যা পূর্ণ সদস্য দেশের কোনো অধিনায়ক টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর আগে করতে পারেননি। ২০২৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে দুটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি- ব্রুক এখন এই কীর্তির একমাত্র মালিক।
আইএইচএস/

