আবুল বারকাতের ৪৯ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের মধ্যে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ২৯ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের অর্থ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অধ্যাপক আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তার নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা আড়াই লাখ টাকা এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে থাকা দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার নামে থাকা ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থও অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিক্রি কিংবা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ক্রোক ও ফ্রিজ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে দুদকের একটি মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায়ও জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন।
এমডিএএ/এমআইএইচএস


