পিপিপিতে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল চালুর চুক্তির নীতিগত অনুমোদন
নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের বিনিয়োগ থাকবে না, শুধু মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে বেসরকারি অংশীদার।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মিলটি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। এটি পিপিপির আওতায় পুনরায় চালুর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড, ঢাকাকে প্রেফার্ড বিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। মিলের ভূমি ব্যবহারের বিপরীতে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। পাশাপাশি তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি হিসেবে বিটিএমসিকে পরিশোধ করবে।
এছাড়া বেসরকারি অংশীদার পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা এবং বিটিএমসিকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন চুক্তির বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ-বিষয়ক বিভাগের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামত নিয়ে চুক্তিটি সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এরপর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি আবার উপস্থাপন করা হয়।
পিপিপি পদ্ধতিতে মিলটি চালু হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
একই সঙ্গে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএএস/এমকেআর



