রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে মালয়েশিয়া

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়...

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

আনোয়ার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতেই তিনি দেশটির নেতাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দায়িত্ব নিতে হবে।

গত জুলাইয়ে আনোয়ার জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী।

দুই দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে। তবে তাদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আনোয়ার বলেন, মিয়ানমার একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে না পারলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা সংকটের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা।

মালয়েশিয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার। এর মধ্যেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে তাঁরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

পরে তাদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ নথি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর পরিকল্পনা ঘোষণার পর জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন কীভাবে হবে এবং ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

শরণার্থী কনভেনশনে নেই মালয়েশিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বসবাস। তবে দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে দেশটির আইনে শরণার্থীদের আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক মর্যাদাও নেই।

এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের অভিযোগ, এসব অনলাইন প্রচারণা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ভয়ভীতি ও বৈষম্য বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। তাঁদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নেয়।

এখন মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1157973
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World