সাক্ষী না আসায় সোহাগ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য পেছালো
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ হত্যা মামলায় নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এ ঘটনায় মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে কোনো সাক্ষী আদালতে না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করে নতুন তারিখ দেওয়া হয়। জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
মামলাটিতে ২১ আসামির বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। এরই মধ্যে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস। আসামিদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে রয়েছেন, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং ঘটনার নেপথ্যে যাদের নাম আসে, তাদের অনেকেই আগে থেকেই পরস্পরের পরিচিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন একসময় সোহাগের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে তাদের ধারণা।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে অভিযোগপত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা জানিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।
ঢাকার মহানগর হাকিম নাজমিন আক্তার গত ২০ জানুয়ারি সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বদলি হন। পরে মামলার তদন্তভার পান কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ। তিনি নতুন করে তদন্ত শেষে গত ১০ মে ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এমডিএএ/এমএএইচ/
