জমকালো আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিলো জবি ছাত্রদল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ২১তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রদল। দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ২,১০০ জন নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ নবীনবরণ। নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

‘কী হতে চাও, এখনই লক্ষ্য স্থির করো’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যবিষয় আত্মস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তরুণরা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের উৎকৃষ্ট মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে উল্লেখ করে তিনি একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সব সময় তাদের পাশে থাকবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
উপাচার্য আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান থাকলেও দেশের স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি উল্লেখ করেন।
জবি উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়ে কেউ যেন ‘ক্রেডিট রাজনীতি’ না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা ও সংগঠনের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা, দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা ও ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন।
নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
টিএইচকিউ/এমএমকে




